Pages

Thursday, September 17, 2015

বাংলাদেশে স্বল্পমূল্যে দ্রুত গতির ইন্টারনেট সরবরাহ করে বেকারত্ব দূর করা সম্ভব।



বর্তমান যুগ আধুনিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যুগ। আধুনিকতা ও প্রযুক্তির দিকে সারা বিশ্ব ঝুঁকে পড়ছে। আমাদের বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। অফিস আদালত, ব্যবসা বাণিজ্য, এমনকি শিক্ষাক্ষেত্র সহ সর্ব ক্ষেত্রেই কাগজ কলমের ব্যাবহার অনেকটাই এখন কমে গিয়েছে। সর্বত্রই এখন অনলাইনের ব্যবহার ব্যাপক ভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে। দেশ বিদেশে বন্ধু বান্ধব, আত্মীয় স্বজনদের সাথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম টেলিফোন এবং ইন্টারনেট। ব্যবসা বাণিজ্য, চাকরি বাকরিসহ নানান ক্ষেত্রে বৈদেশিক কাজ কর্ম ও ব্যবসায়িক চুক্তির অন্যতম মাধ্যম হলো ইন্টারনেট। শিক্ষা আর চাকরির ক্ষেত্রে আবেদন, পরীক্ষা ও ফলাফল এগুলোর কথা আর নাই বললাম। বর্তমানে ইন্টারনেট ছাড়া কোন মানুষ তথা দেশ বলতে গেলে একপাও এগুতে পারবে না।

দেশে জনসংখ্যার হার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিক্ষিত মানুষের সংখ্যাও অনেক। কিন্তু চাকরি? মানুষ কি লেখাপড়া শেষ করেই চাকরি পাচ্ছে? বাংলাদেশে চাকরির সংখ্যা খুবই সীমিত। আচ্ছা চাকরি না পেল, যাদের টাকা পয়সা আছে তারা ব্যবসা করবে। কিন্তু আমরা? আমাদের মতো নিম্ন মধ্যবিত্ত যারা, তারা কি করবে?
যার ফলে দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা দিন দিন ব্যাপক থেকে ব্যাপকতর হচ্ছে।
কিন্তু লেখাপড়া শেষ করে আমরাতো আর হাত পা গুটিয়ে বসে থাকতে পারি না? উপার্জনের জন্য আমাদের কিছুতো একটা করতেই হবে?
বর্তমান যেহেতু তথ্য প্রযুক্তির যুগ তাই বহিঃর বিশ্বের দিকে তাকালে দেখা যায় তারা চাকরি ছাড়াও ইন্টারনেটে আউটসোরসিং এর মাধ্যমে টাকা উপার্জন করছে।
ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন মারকেটিং, একাউন্টিং, এডভারটাইজিং, ওয়েবসাইট তৈরি, ডিজাইনসহ দেশি বিদেশি কোম্পানীর নানা ধরনের কাজ ঘড়ে বসেই করা যায়। যা আমরা  করতে পারলে দেশে বেকারের সংখ্যা তো কমবেই, দেশটা একটা উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে। আর এর জন্য প্রয়োজন স্বল্প মূল্যে উচ্চগতি সম্পন্ন ইন্টারনেট।
     
কিন্তু দুঃখের বিষয় আমাদের বাংলাদেশ এখনো এ ব্যাপারে অনেক পিছিয়ে আছে।বহিঃর বিশ্বের মানুষ 4G তথা আরও উচ্চগতি সম্পন্ন ইন্টারনেট খুবই স্বল্পমূল্যে ব্যাবহার করছে। তাদের ইন্টারনেটের গতি এতোটাই দ্রূত যা আমরা এখনো কল্পনাও করতে পারিনা। এবং তা তারা পাচ্ছে খুবই স্বল্প মূল্যে।
আমাদের দেশে সবেমাত্র 3G সেবা চালু হলেও দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে তার নেটওয়ার্ক এখনো সারা দেশব্যাপী বিস্তার লাভ করতে পারেনি। বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে 3G পরিসেবা পাওয়া গেলেও গ্রাম পর্যায়ে একেবারেই নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না। আর ব্রডব্যান্ড তথা ওয়াই-ফাই কানেকশনের কথাতো কল্পনাও করা যায় না। এবং গ্রাহকদের ইন্টারনেট ডেটা কিনতে হচ্ছে অধিক মূল্যে। আর যা আমাদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে।
যার ফলে আমাদের মতো গ্রামের লোকেরা বঞ্চিত হচ্ছে ঘড়ে বসে ইন্টারনেটে আউটসোরসিং এর মতো কাজ করা থেকে। এর ফলস্বরূপ গ্রামের মানুষ বিভাগীয় ও ঢাকা শহরগামী হচ্ছে। আমাদের ছোট্ট শহর রাজধানী ঢাকায় মানুষের চাপ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আর তাই আমি তথা আমার মতো হাজারো শিক্ষিত বেকার জনোগষ্ঠীর এখন একমাত্র চাওয়া, সরকারি এবং বেসরকারি মোবাইলফোন অপারেটর কোম্পানীগণকে, বেকারত্ব দূরীকরণ এবং দেশের উন্নয়নের লক্ষে, স্বল্পমূল্যে উচ্চ গতিসম্পন্ন ইন্টারনেট সরবোরাহ ও গ্রামপর্যায়ে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার অনুরোধ জানাই।             

No comments:

Post a Comment