Pages

Saturday, September 26, 2015

Bicroy.com, Ekhanri.com, OLX.com এই সাইটগুলোকে কেন্দ্র করে চলছে মানুষের নিদারুণ ঠঁকবাজী।



  
মানুষ খুবই অদ্ভুত প্রাণী যাকে  সহজে বিশ্বাস করতে নেই। আবার অবিশ্বাসও করা যায় না। দুনিয়াতে এখনো অনেক ভাল মানুষ আছে। সব মানুষ যেহেতু এক না সেহেতু খারাপ মানুষও নেহাত কম নেই। চোর, বাটপার, ঠঁকবাজ, প্রতারকেরও অভাব নেই। বিষেশ করে আমাদের বাংলাদেশে। লোক ঠকাতে আমরা খুবই পারদর্শী। আসলে এ বৈশিষ্ট্য আমাদের বংশ পরম্পরায় বাঙালি জাতীর মধ্যে বিদ্যমান কিনা তা আমার জানা নেই। মানুষ এখন যে ভাবে লোক ঠকায়, তাতে করে অপরিচিত কাউকে ভুলেও বিশ্বাস করা যায় না। একটা প্রবাদ আছেনা, অপরিচিত বন্ধুর থেকে পরিচিত শত্রু ভাল। কথাগুলো কেনো বললাম তার প্রমাণ একটু পরেই পেয়ে যাবেন। তবে পরিচিত অপরিচিত যাই হোক কাউকে যে একদমি বিশ্বাস করা যায় না তা কিন্তু না। তাহলেতো দুনিয়াটাই অচল। তবে একটু সাবধানে ভেবে চিন্তে কাজ করাই ভালো। যাই হোক এবার আসল কথায় আসা যাক।

আধুনিকতার ছোঁয়ায় বর্তমান যুগে সবারই স্মার্ট ফোন, ট্যাব, ল্যাপটপ ইত্যাদি স্মার্ট ডিভাইসের প্রতি আকর্ষণ থাকে। আমিও তার থেকে আলাদা না। লোক দেখানোই হোক আর নিজের প্রয়োজনেই হোক ভাল একটা স্মার্ট ফোনের শখ ছিল আমার। মানুষের চাহিদা কিন্তু তার সামর্থ্যের ওপর নির্ভরশীল। যার যেমন সামর্থ্য সে তেমন পন্য কিনে থাকে। আমি মধ্যবিত্ত ঘড়ের ছেলে। তাই আমার বাজেট কম। চাইলাম সাদ্ধের মধ্যে একটি ভালো স্মার্ট ফোন কেনার জন্য। তাই চিন্তা করলাম এখানেই ডট কম, বিক্রয় ডট কম এই সব সাইট গুলোতে খুজে দেখি। হয়তো কেউ টাকার প্রয়োজনে ভাল ফোন কম দামে বিক্রি করলেও করতে পারে। তাই খুজতে লাগলাম এবং কয়েকটা পেয়েও গেলাম। একটাতে লেখা, একদম নতুন, কোন স্ক্র্যাচ নেই, কিছুদিন আগে কেনা হয়েছে, চারজার, ডেটা কেবল, বক্স, ক্যাশ ম্যামো সব দেব, খুব টাকার প্রয়োজন তাই বিক্রি করছি। এসব দেখে মনে হলো ভালোইতো, আবার দামও কম। তাই ফোন দিলাম, কিন্তু ফোন রিসিভড করলো না। একটু পরে কল ব্যাক করলো। বলল ফোনের এড দেখে ফোন দিয়েছিলেন? হ্যা, টাকা কী ক্যাশ আছে? তাহলে আমি কুরিয়ারে সব পাঠিয়ে দিচ্ছি, আপনি বিকাশে টাকা পাঠিয়ে দেন। বললাম টাকা পাঠাবো, আমি আপনাকে কীভাবে বিশ্বাস করবো? তখন সে আমাকে এমন সব কথা বলল মনে হলো দুনিয়ায় ভালো মানুষ থাকলে সেই আছে। কি মিষ্টি মধুর ভাষায় অসহায় ভাবে কাকুতি মিনতি করে কথা বলল যেকোনো কঠিন মানুষও গলে যাবে, আমিতো সাধারণ মানুষ। তবুও আগে আমি কুরিয়ারের সমস্ত ডকুমেন্টস এম এম এস করে পাঠিয়ে দিতে বললাম। তার কাছে নাকি খাওয়ার টাকাও নেই। সে খুবই দুর-অবস্তায় আছে। আমি টাকা পাঠানোর পর সে তাই দিয়ে কুরিয়ারের বিল পরিশোধ করবে। তবুও আমি নানা ভাবে সিওর হতে চাইলাম। সে এমন সব কথা বলছিলো আমি যেন হিপনোটাইচ হয়ে গিয়েছিলাম। নানা তালবাহানার পর আমি টাকাটা বিকাশ করেই ফেললাম। কিছুক্ষণ পর ফোন দিলাম, আমি অবাক! তার ভাষা পাল্টে গেছে। সে আরো টাকা চাচ্ছে, না হলে কুরিয়ারের সিরিয়াল নাম্বার দেবে না। আমার বুঝতে আর বাকি রইলো না, বাটপাড়ের পাল্লায় পরেছি। আবার ফোন দিলাম, এমনতো কথা ছিলো না? সে বলল, আরো টাকা না দিলে সিরিয়াল নাম্বার দেবো না, যেগুলো পাঠিয়েছিস সেগুলো এখন আমার টাকা। বললাম ভাই এখন আমার কাছে টাকা নেই সিরিয়াল নাম্বারটা দেন আমি পরে টাকা পাঠিয়ে দেব। তাহলে পরে নিস বলে ফোন কেটে দিলো। আমি বুজতে পেরেছি এ বড় বাটপাড় যা যাওয়ার গিয়েছে আরো যা দেব সবই জলে যাবে। কিন্তু বুজতে অনেক দেরি হয়ে গেল। পরবর্তীতে বললাম আমার মতো গরীবের টাকা মেরে খেলে তোর কপালে অনেক শাস্তি আছে। তখন সে যাচ্ছেতাই গালিগালাজ করে যা পারিস কর বলে ফোন কেটে দিল।

এখন আমার আর কী করার আছে? এতোগুলো টাকা(টাকার অংকটা বলতে চাই না) বাটপাড়ের হাতে হারানোর পর আমি যেন চারদিকে অন্ধকার দেখতে লাগলাম। কি করবো কিছুই ভেবে পাচ্ছিলাম না। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে সৎ পথে উপার্জিত টাকা। একটু একটু করে জমানো টাকা। যেখানে ছিল আমার শখ, স্বপ্ন, সাদ-আল্লাদ। মানুষিক ভাবে বিপর্যস্ত  হয়ে পড়েছিলাম আমি। এইভাবে সব হারিয়ে যাওয়ার ধক্কাটা কাঁটিয়ে উঠতে আমার বেশকিছুদিন সময় লেগে গিয়েছিল। তবুও নিজের মনটাকে শান্ত করার চেষ্টা করলাম। যা হওয়ার হয়েছে, মরে তো আর যাইনি। আবার সবকিছু নতুন করে শুরু করবো। দেখিয়ে দেব সৎ পথেও টাকে উপার্জন করা যায়। এইভাবে নিজেকে সামলিয়ে আবার নতুন উদ্দমে কাজ করতে লাগলাম।
যাই হোক শেষ বেলায় শুধু একটা কথাই ভাবতে লাগলাম, এইভাবে লোক ঠকিয়ে ঠঁকবাজরা আর কতদিন চলবে? হয়তো এমন চলতেই থাকবে, সারা জীবন। কিন্তু মানুষিক দিক দিয়ে তারা কখনো কী শান্তি পাবে?          

No comments:

Post a Comment